বাংলাদেশের নদীতে বাঁধা রঙিন কাঠের নৌকা

খাবার ও সংস্কৃতি · Food & Culture

নদী, ভাত আর মাছে গড়া এক দেশ।

মাছে ভাতে বাঙালি

বাংলাদেশের খাবার একটি ব-দ্বীপের গল্প: বর্ষার বৃষ্টি, উর্বর পলি, শত শত নদী, আর সেই মানুষেরা, যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে চাষ করেছেন, মাছ ধরেছেন, রান্না করেছেন।

প্রথম অধ্যায়

যে ব-দ্বীপ পুরো জাতির অন্ন জোগায়।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ নদী ব-দ্বীপে অবস্থিত, যেখানে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা পানি আর পলি বয়ে নিয়ে যায় বঙ্গোপসাগরে।

প্রতি বর্ষায় নদীগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আর রেখে যায় পৃথিবীর অন্যতম উর্বর মাটি। তাই উত্তর থেকে উপকূল পর্যন্ত সবুজ ধানক্ষেত বিছিয়ে থাকে, আর যাতায়াত থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবনের অনেকটাই আজও পানির ছন্দে চলে।

নদীতে ছোট নৌকায় দুজন জেলে

দ্বিতীয় অধ্যায়

মাছে ভাতে বাঙালি।

পুরোনো প্রবাদটি আজও সত্যি। বাংলাদেশের একবেলার খাবার গড়ে ওঠে এক থালা ভাত ঘিরে, সাথে মাছ, ডাল আর সবজি।

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ, বর্ষার গর্ব। সর্ষে বাটায় রান্না হয় সর্ষে ইলিশ, কলাপাতায় ভাপানো হয় ভাপা ইলিশ, আবার ভাজা ইলিশ পরিবেশন করা হয় ভাজার তেলসহ। নদীর মাছ, গলদা চিংড়ি, আর উপকূলে রোদে শুকানো শুঁটকি প্রতিটি অঞ্চলের খাবার টেবিলকে দিয়েছে নিজস্ব রূপ।

সর্ষে ইলিশ রাঁধুন
বরফে রাখা তাজা ইলিশ মাছ

তৃতীয় অধ্যায়

সর্ষের তেল, ভর্তা আর মসলার কৌটা।

ঝাঁঝালো সর্ষের তেল গ্রামবাংলার রান্নার স্বাক্ষর, আর হাতে মাখা ভর্তা তার সবচেয়ে খাঁটি রূপ।

আলু, বেগুন, ডাল, শুঁটকি: সর্ষের তেল, পেঁয়াজ আর ঝাল কাঁচা বা পোড়া মরিচ দিয়ে প্রায় সবকিছুই ভর্তা করা যায়। মসলার কৌটায় থাকে হলুদ, মরিচ, জিরা আর ধনিয়া, আর অনেক রান্নায় লাগে পাঁচফোড়ন: জিরা, কালোজিরা, মেথি, মৌরি ও সর্ষের পাঁচ রকম দানার মিশ্রণ।

লাইফ মসলা ও পেস্ট
গোটা ও গুঁড়া মসলায় ভরা একটি মসলার দোকান
পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর নৌকা

চতুর্থ অধ্যায় · পুরান ঢাকা

মোগল রাজধানী, যার রান্নাঘর কখনো থামেনি।

১৬১০ সালে ঢাকা হয় মোগল বাংলার রাজধানী। চার শতাব্দী পরেও পুরান ঢাকার অলিগলিতে টিকে আছে সেই ঐতিহ্য: সুগন্ধি কাচ্চি বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও, মচমচে বাকরখানি আর ঠান্ডা বোরহানি।

রমজানে চকবাজারের ইফতার বাজারে কাবাব, জিলাপি আর বছরে একবারই তৈরি হয় এমন সব খাবারের টানে শহরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।

পঞ্চম অধ্যায়

ছয় ঋতু, ছয় রকম খাবার।

বাংলা বর্ষপঞ্জিতে ঋতু চারটি নয়, ছয়টি, আর প্রতিটি ঋতু বদলে দেয় হাঁড়ির রান্না। একটি ঋতু বেছে নিন।

বিস্তৃত বালুকাবেলায় একটি মাছ ধরার নৌকা

ফলের ঋতু।

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি আসে গরম, সাথে আম, কাঁঠাল আর লিচু। বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ দিয়ে ঋতুর শুরু। ঠান্ডা পানীয়, লাচ্ছি আর বোরহানি জুড়িয়ে দেয় দুপুর।

লাইফ পানীয়

ষষ্ঠ অধ্যায়

প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্বাদ।

প্রতিটি জেলা গর্ব করে এমন কিছু নিয়ে, যা তারা সবার চেয়ে ভালো রাঁধে। জানতে একটি জায়গা বেছে নিন।

পুরান ঢাকা

কাচ্চি বিরিয়ানি ও বাকরখানি

কাঁচা খাসির মাংস আর চাল স্তরে স্তরে সাজিয়ে মুখবন্ধ হাঁড়িতে ধীরে ধীরে রান্না করা কাচ্চি, আর সকালের চায়ের সাথে মচমচে, স্তরে স্তরে গড়া বাকরখানি।

সপ্তম অধ্যায়

সুন্দর বাংলাদেশ।

সবুজ মাঠ, প্রশস্ত নদী, ম্যানগ্রোভ বন আর দীর্ঘ সৈকতের দেশ, যেখানকার মানুষ প্রতিটি অতিথিকে আপ্যায়ন করেন খাবার দিয়ে।

ম্যানগ্রোভ বনের নদীর ওপর কুয়াশা
সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস।
বনে চিত্রা হরিণ
বন্যপ্রাণী চিত্রা হরিণ, নদীর ডলফিন আর শত শত প্রজাতির পাখির বাস এই বন ও জলপথে।
ছায়াগাছের নিচে চা-বাগানের সারি
সিলেটের চা-বাগান দেশের উত্তর-পূর্বে ছায়াগাছের নিচে চা-গাছে ঢাকা সবুজ টিলা।
বিস্তৃত বালুকাবেলায় একটি মাছ ধরার নৌকা
কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতগুলোর একটি, বঙ্গোপসাগরের তীর ধরে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত।
গ্রামবাংলায় সূর্যাস্তের ধানখেত
ধানক্ষেত সারা বছর দেশজুড়ে ধান রোপণ ও কাটা হয়, মাঠ প্রথমে সবুজ, তারপর সোনালি হয়ে ওঠে।
হলুদ সরিষা ফুলের খেতে হাঁটছেন একজন কৃষক
ফুটন্ত সর্ষেক্ষেত শীতে সর্ষেক্ষেতে পুরো জেলা উজ্জ্বল হলুদ হয়ে যায়।

অষ্টম অধ্যায়

উৎসব মানেই খাবার।

বাংলাদেশের প্রতিটি উৎসবের নিজস্ব খাবার আছে। পরিবারকে একসাথে করে এমন কয়েকটি মুহূর্ত।

১৪ এপ্রিল

পহেলা বৈশাখ

বাংলা নববর্ষ। রাস্তা ভরে ওঠে রঙে, গানে আর মঙ্গল শোভাযাত্রায়, আর অনেক পরিবার খায় ইলিশ ভাজা দিয়ে পান্তা ভাত।

রমজান

ইফতার

সূর্যাস্তে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা হয়, তারপর ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি আর ঝালমুড়ি সবাই মিলে ভাগ করে খাওয়া।

ঈদ

সেমাই ও পোলাও

ঈদের সকাল শুরু হয় মিষ্টি সেমাই দিয়ে, তারপর সারাদিন চলে পোলাও, কোরমা আর আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো।

অগ্রহায়ণ

নবান্ন

নতুন চালের ফসল উৎসব, যা পালিত হয় পায়েস, পিঠা আর ফসলের জন্য কৃতজ্ঞতায়।

শীত

পিঠা উৎসব

মেলা আর ঘরের রান্নাঘর ভরে ওঠে ভাপা, ভাজা, আর দুধ ও খেজুরের গুড়ে ভেজানো নানা রকম পিঠায়।

ফাল্গুন

পহেলা ফাল্গুন

বসন্তের প্রথম দিন, পালিত হয় হলুদ আর কমলা রঙে, খোঁপায় ফুল আর পার্কে পার্কে গানে।

চিরচেনা রান্না

এই স্বাদ নিয়ে আসুন ঘরে।

খিচুড়ি আর সর্ষে ইলিশ থেকে পোলাও, পায়েস আর দুধ চা: লাইফের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে তৈরি চৌদ্দটি রেসিপি।